একটা সোফায় হেলান দিয়ে বসে রয়েছি আমি। ঘামছি। শুধু আমি নয়, আমার মতো আরো অনেকগুলো ছেলেমেয়ে বসে রয়েছে আমার সামনে, দুপাশে। সকলেই আমরা কমবেশী ঘামছি। গরমটা পড়েছেও খুব বেশী, বাইরে লু বইছে। যদিও মাথার ওপর পাখা একটা আছে, কিন্তু হাওয়াটা বেশ গরম। কেউ আবার ঘামছে টেনশনে। গম্ভীর হয়ে বসে রয়েছে। চুলটা ঠিক করছে বারবার। গালের ওপর হাত বুলিয়ে দেখছে সকালে কেটে আসা দাড়ি বড় হয়ে গেল কিনা। টাই-এর নট্ টা ঠিক করছে অনবরত।
কত মাইনে দেবে বলেছে?
জানিনা, হার্ডলি দুই, এর ওপর উঠবে বলে মনে হয় না।
এখানেই? নাকি আবার বাইরে পাঠাবে?
কে জানে কোথায়! যেখানেই পাঠাক, চলে যাবো।
দুই-এ বাইরে গিয়ে পোষাবে?
না চললে বাবা সাপোর্ট দেবে, একটা এক্সপিরিয়েন্স তো হবে।
ক’জনকে নেবে জানেন কিছু?
জানিনা, তবে নতুন সেট-আপ করছে, বেশ কিছু নিশ্চই নেবে।
নতুন প্রোডাক্ট মার্কেটিং করা তো বেশ মুশকিল। প্রচুর খাটতে হবে।
সেই জন্যই তো ফ্রেশার নিচ্ছে।
এলোমেলো এরকম খন্ড খন্ড আলোচনা আসছে কানে। আমি বসে রয়েছি চুপচাপ, বসে বসে ঘামছি। এটা আমার তের নম্বর ইন্টারভিউ। ধরেই নিয়েছি ভাগ্য অপ্রসন্ন। তবু বসে রয়েছি, ঘামছি। কোনো না কোনোটা তো তের নম্বর হবেই।
আগেরটা তে আমায় জিজ্ঞেস করেছিলো, বাবা কিসে কাজ করে? সত্যি কথাই বলতে হয়, ‘ইনকাম ট্যাক্সে’। ইন্টারভিউয়ার তক্ষুনি আমার বায়োডাটা ফাইলের মধ্যে রেখে বললেন, ওরে বাবা তুমি তো ছোট থেকেই টাকার মধ্যে মানুষ হয়েছ হে! এ চাকরী খাটনির, তোমায় দিয়ে হবে না।
আর একটা ইন্টারভিউ ছিল ডোর-টু-ডোর সাবান বেচার কাজ। তারা আবার ফ্লুয়েন্সী চেয়েছিল ইংরাজিতে। আমাকে প্রথমেই বললো, তুমি ভাই ট্রানস্লেশান করছো, ইংলিশ ফ্লুয়েন্ট হতে হবে। কলকাতা শহরে বাড়িতে বাড়িতে ঘুরে গৃহিনীদের কাছে সাবান বেচতে যে ফ্লুয়েন্ট ইংরাজির দক্ষতা চাই, আমার তা নেই।
আর একটা ইন্টারভিউতে জিজ্ঞেস করেছিল আমি বাইরে যেতে রাজি কি না। এসব ক্ষেত্রে আমি জানি বলতে হয়, ‘এনিহোয়্যার সার’। সেটাই নাকি পজিটিভ অ্যাটিটিউড। কিন্তু যেই পরের প্রশ্ন করলো, সে অ্যাবাউট ইওর ফ্যামিলি, আর বললাম যে আমি বাবা মায়ের একটাই ছেলে, আর কোনো ভাই বোন নেই, ভদ্রলোক বিগড়ে গেলেন, তাহলে তো আমরা আপনাকে নিতে পারছি না ভাই, ক’দিন বাদেই মা বলবেন, আহা ছেলেটার ঠিকঠাক খাওয়া হচ্ছে না, বাবা বলবেন, আমার ছেলেটার ঘুম হচ্ছে না, রোগা হয়ে যাচ্ছে। আর আপনি পালিয়ে আসবেন।
কেন স্যার? বাবা মা কি চান না যে আমি চাকরি করি?
সব বাবা মা-ই চান, আর শেষটায় কি হয় তাও আমার বিস্তর জানা আছে।
এইরকম সব একেকটা ইন্টারভিউ, প্রতিমাসে চলছে। আগের সবগুলোতেই অসফল। এমাসে চারটের কোনো কল-ই আসেনি। পাড়ায় এক দাদা আছে, সে আবার কথায় কথায় চাকরি বদলায়, বললো, অ্যাপ্লিকেশান-এ নাকি সবসময় কল আসেনা, ওয়াক্ইন-এ যাও। আজকে তাই চলে এসেছি। এটা আবার মেডিকেল রিপ্রেসেনটেটিভ। বায়োলোজি নিয়ে পড়তে হয়েছিল গ্র্যাজুয়েশনে। উচ্চমাধ্যমিকে কম নম্বর পেয়েছিলাম অঙ্কে, তাই পিওর সাইন্স পাইনি। কাজে লেগে গেল আজ। চলে এলাম ইন্টারভিউ দিতে। প্রায় আশি জন এসেছে। এখোনো আসছে। আমার নম্বর আটান্ন। যদিও সময় বেশি নিচ্ছে না, একেক জনকে পাঁচমিনিট ধরছে। মেয়েরা স্পেশাল ছাড় পাচ্ছে, তাদের অপেক্ষা করতে হচ্ছে না। সব মেয়েরাই আগামী শুক্রবার ফাইনাল ইন্টারভিউ-এ ডাক পাচ্ছে। অর্থাৎ তাদের কাউকেই বাদ দিচ্ছে না, ছাঁটা হচ্ছে শুধু ছেলেদের। বায়োডাটা রেখে দিয়ে বলছে, বাড়িতে খবর যাবে। প্রছন্ন অর্থ, কেটে পড়ো। তবু এসে যখন পড়েইছি, মুখটা দেখিয়েই যাই। তাই বসে আছি, বসে বসে ঘামছি, ঘামতে ঘামতে তাকিয়ে আছি আমারই মতো মুখগুলোর দিকে।
বসে মনে কয়েকটা লাইন লিখে ফেললাম,-
দৌড়ে যে অসফল, সেই ব্যক্তি ইতরবিশেষ
তার মৃত্যু অভিপ্রেত, তার জন্য রাখবোনা শোক
জীবনের মূলমন্ত্র কম্পিটিশন সাকসেস্
পরাজিত ঘোড়াদের এইবার মেরে ফেলা হোক
মনে আছে স্কুলের পড়ার সময় ম্যাগাজিনে ছড়া লিখেছি। ইদানীং অনেকদিন আর কিছু লেখা হয় না। শেষবার একটা কবিতা লিখেছেলাম অরুনাকে। অরুনা আমার গার্লফ্রেন্ড। ওর স্কুলে যাবার সময় দু-একদিন আওয়াজ দিয়েছেলাম, ভাবিনি সত্যি ঝুলে পড়বে আমার সাথে। অবশেষে প্রেম যখন হলো, তিনদিন ধরে অনেক বই ঘেঁটে প্রথম প্রেমপত্র লিখলাম কবিতায়। তো আমার প্রতিভা ও খুঁজেই পায়নি। কবিতার সাথে এমনিতেই ওর আদা – কাঁচকলা সম্পর্ক। পাঠ্যবই-এর কবিতাই নাকি কখোনো পড়েনা ও, শুধু সাজেশান উত্তর পড়ে পরীক্ষা দেয়। – সেই আমার শেষ কবিতা লেখা। অরুনা হিন্দী সিনেমার হিরোদের নিয়ে সবথেকে উৎসাহী। আর আমি ক্যালানে বাঙালি, হিরোইজম-এর ছিটেফোঁটাও নেই। না চেহারায়, না ক্ষমতায়। তবু অরুনা ঝুলে আছে। ভুল করছে। আমারও মাঝে মাঝে মনে হয়, প্রেম করাটা বোকামো হয়ে গেছে। সমস্যা হয়ে উঠেছে আস্তে আস্তে। রোজ বিকেলে বেরিয়ে একই লেকের ধার, একই বকবক আর ভালো লাগছেনা। এখোনো একটা চাকরী জুটলো না। যা মনে হচ্ছে, কেউ বসিয়ে না দিলে আমা দ্বারা চাকরী পাওয়া হবে না। অবশ্য সে চেষ্টাও যে করিনি তা নয়। এক আত্মীয় রয়েছেন, একটা মার্কিন বহুজাতিক সংস্থার উচ্চপদে। শুনেছি ওনার পাড়ায় সবাইকে তিনিই নাকি চাকরী দিয়েছেন। গিয়েছিলাম তার কাছে। তিনি তো শুনে আকাশ থেকে পড়লেন, ‘আরে তুমি গ্র্যাজুয়েট হয়ে গেছ নাকি! নিজে চাকরী পাচ্ছো না, বলবে তো! দিয়ে যেও তোমার বায়োডাটা’। বায়োডাটা দিয়ে এসেছি মাস তিনেক হয়ে গেছে, সে আজও জানায়নি। অমুক দিন ফোন করো, তমুক দিন ফোন করো শুনতে শুনতে ফোন করাও ছেড়ে দিয়েছি। সব বোঝা হয়ে গেছে। ক্রমশঃ ফাস্ট্রেশান আসছে আমার। অরুনাকে প্রায় বলি, বাবাকে বলো ছেলে খুঁজতে। ওর বাবা ব্যাঙ্কে চাকরি করেন, এক মেয়ে, দেখতে শুনতে ভালো, গ্র্যাজুয়েট, উত্তর কলকাতায় দোতলা বাড়ি, যথেষ্ট ভালো ছেলে পেয়ে যাবে। যদিও এখনো ছাড়েনি ও আমাকে। দেখা যাক হিন্দী সিনেমার ঘোর কদ্দিন চলে!
ঊনপঞ্চাশ নম্বর গেছিল ইন্টারভিউ দিতে। ফিরে এসে বললো, ওকে নাকি শুক্রবার আবার আসতে বলেছে। যতক্ষণ ধরে বসে আছি, এই প্রথম একটা ছেলেকে আবার ফাইনাল ইন্টারভিউ-এ ডেকেছে। স্বাভাবিকভাবেই সবাই হুমড়ি খেয়ে পড়েছে ওর কাছে, ওকে কি জিজ্ঞেস করলো, ওই বা কি বললো, হ্যানা ত্যানা …
একটা ক্ষীণ আশা আবা বাসা বাঁধতে শুরু করলো মনে। সবাইকে তাহলে বাতিল করছে না। পঞ্চাশ ঢোকার আগে দরজায় একবার নমষ্কার করে নিল, বসে বসে দেখলাম আমি। এরপর একান্ন। সে আমার পাশেই বসে। জুলোজি নিয়ে এম.এস.সি করেছে।
এম.এস.সি করে ওষুধ বেচবে?
বি.এস.সি করেই বেড়িয়ে পরা উচিত ছিল, মিছিমিছি দুটো বছর দেরী হয়ে গেছে।
বেশ দৃঢ়তার সাথেই বললো ও। বুঝলাম ওর পড়াশোনায় ফাস্ট্রু। এবার বেচুর পথ। প্রথম ইন্টারভিউ, আমার মতো এক্সপিরিয়েন্সড্ না। একটু নার্ভাস রয়েছে। বারবার টাই ঠিক করছে। ‘নট্-টা ঠিক মাঝখানে আছে তো’, আমায় জিজ্ঞেস করছে বারবার।
টাই আমি পরিনি। টাই আমি পরিনা। খুব ছোটবেলায় ভর্তি হয়েছিলাম ইংরাজি মিডিয়াম স্কুলে। সেখানে টাই ছিল। যদিও বাঁধতে হতো না, ইলাস্টিক দেওয়া। উঁচু ক্লাশে উঠলে অবশ্য বাঁধতে হতো, কিন্তু ওই স্কুলে উঁচুর দিকে আর উঠিনি। বাবা অনেক আশা নিয়ে ইংরাজি দিয়ে শুরু করেছিলেন, শেষে ঠেকেছি এসে বাঙলাতে। কাক যতই পেখম লাগাক গলা দিয়ে ‘কা’-ই বেরোবে, কেকা হবে না। তাই টাই বাঁধাটা আর শেখা হয়নি। প্রথম দু-তিনটে ইন্টারভিউতে উৎসাহ বেশী ছিল তাই, পাড়াতুতো দাদার একটা টাই পরেছিলাম। ওই বেঁধে দিত। সবাই বলেছিল টাই পরলে নাকি স্মার্ট দেখায়, আলাদা ইম্প্রেশান তৈরি হয়। – সবই ঢপের কথা।
তবু ওকে অত কিছু বললাম না। আমার মতো যদি তের নম্বরে আসে নিজেই বুঝে যাবে। আমি ঘাড় নেড়ে জানালাম টাই ঠিক আছে। ও গেল ইন্টারভিউ দিতে। বলা বাহুল্য, পঞ্চাশকে যথারীতি বলা হয়েছে বাড়িতে খবর যাবে।
মাধ্যমিকে পাশ করে ছিলাম ফার্স্ট ডিভিশনে। বাবা বলেছিল টাইপ শর্টহ্যান্ড শিখতে। পড়াশোনা শেষ হতে হতেই হাতে স্পীড এসে যাবে, স্টেনোগ্রাফির মূল্য থাকবে সবসময়। চাকরি ঠিক পাওবা যাবে। তো তখন আমি সাইন্স নিয়ে ভর্তি হয়েছি উচ্চমাধ্যমিক, স্বপ্ন দেখছি ডাক্তার হবার। কেরানি হবার দিকে তাকিয়ে মুখ ভেঙচেছিলাম। বাবাও জীবনে সেই একবারই জ্ঞান দিয়েছিল আমাকে, আর দেয়নি। আমি ডাক্তারও হইনি, স্টেনোগ্রাফারও হইনি। আমার থেকে অনেক সাধারণ ছেলেও হয়েছে। আমার সামনেই তাদের এগিয়ে যেতে দেখেছি। আমি এগোতে পারিনি। গ্র্যাজুয়েশান করতে করতে ঋত্বিক চলে গেছিল হোটেল ম্যানেজমেন্ট পড়তে, গতবছর ও চাকরি পেয়ে গেছে। ফাইভ-স্টার হোটেলে। পার্কস নিয়ে ছ’য়ের কাছাকাছি মাইনে। আমায় দেখে একদিন জ্ঞান দিয়ে দিল। শুনলাম। স্কুলের দুই বন্ধু ইঞ্জিনীয়ারিং ডিপ্লোমা করে চাকরি পেয়ে গেছে। তার মধ্য একজনের রোলনাম্বার তো চিরকাল আমার থেকে পেছনে ছিল। নিলয়কে আগে দাদা বলতাম, পরে ও আমার কাছে অঙ্ক দেখতে আসতো, এতবার থেকেছিল ক্লাশে, ওর বাবা ছিল এক বিদেশী কোম্পানীতে, রিটায়ারমেন্টের পর ছেলেকে ঢুকিয়ে দিয়েছে। একবছরও হয়নি, একটা মোটরবাইক কিনেছে নিলয়। দোতলায় নিজের একটা ঘর করেছে। এলাহি ব্যাপার। আমাকেই প্রেজন্ট করেছে একটা বিদেশী লাইটার।
আমি এখোনো ওয়াক্ইন-এ। এটা তের নম্বর। আরো চার পাঁচটা অ্যাপ্লিকেশান করা আছে। কালকে পোস্ট করতে হবে। এভাবেই চলছে। মধ্যিখানে কম্পিউটার শিখেছিলাম। পাড়ায় পাড়ায় আজকাল ছাতার মত গজিয়ে ওঠা ইনস্টিটিউট। কেউ কেউ বড় বড় ইনস্টিটিউশনের লোগো নিয়ে খুলছে ফ্র্যানচাইসি। ভর্তির সময় বলেছিল চাকরি দেবে। তারপর সব ভোঁ-ভা। ভর্তির সময় যে ছিল, শেষ বেলায় সে আর নেই। ব্যাস, আর কি! একটা ডাটা এন্ট্রির চাকরিও দেয়নি। আর সবথেকে মজা হলো, আমাদের এক্সপ্লয়েট করা খুব সোজা। কিছু করার নেই, বাবার বারো হাজার টাকা ঢুকে গেছে। বাবাকে বোঝাবার মতো আমার কাছে কোনো কথাও নেই। উচ্চমাধ্যমিক পড়তে পড়তে স্বপ্ন দেখেছিলাম ডাক্তার হবার, এখন স্বপ্ন দেখছি ডাক্তারকে বুঝিয়ে ওষুধ বেচার। পেছোতে পেছোতে দেয়ালে পিঠ ঠেকে গেছে। নামতে নামতে মাটির ওপর বসে পড়েছি হাঁটু মুড়ে। ছোটবেলা থেকে নিজেকে আন্য সবার থেকে আলাদা ভেবে এসেছি। বার বার ভেবেছি, আর পাঁচজনের মতো সাধারণভাবে অন্ততঃ জীবন কাটাবো না। ভাবার দিন কেটে যখন বোঝার দিন এসেছে, বেশ বুঝে গেছি, আসলে অত্যন্ত সাধারন মানের আমি। একেবারেই মিডিওকার। পরীক্ষার মার্কশিট আসলে কিছুই নয়। আইদার পার্ফম, অর পেরিশ।
‘তুমিই আটান্ন তো?’ ঠেলা মারে পাশে বসে থাকা একটি নতুন ছেলে।
হ্যাঁ, তাই তো, হটাৎ হকচকিয়ে সম্বিৎ ফিরে পাই আমি।
যাও, সাতান্ন তো বেরিয়ে গেল।
অ্যাঁ?
সাতান্ন তো বেরিয়ে গেল, এবার তুমি যাবে তো?
নিজের কথা ভাবতে ভাবতে খেয়ালই করিনি আগের ছেলেটি কখন ইন্টারভিউ দিতে গেছে। হুড়মুড় করে উঠে পড়ি। ফাইলটা খুলে একবার দেখে নিই বায়োডাটা ওপরেই আছে কি না। এগিয়ে যাই ভেজানো দরজার দিকে। একটু ঠেলা মারতেই দরজা খোলে। হালকা আলো-আঁধার মেশানো সুসজ্জিত বাতানুকুল ঘর। আহ্! কি মনোরম ভেতরটা! একঝলক ঠান্ডা বাতাস মুখে এসে ঝাপটা মারে।
মে আই কাম ইন স্যার?
১৯৯৮ (সহনাগরিক)
