ডিরেক্টরের ঘরে প্রায় উদভ্রান্তের মতো ঢুকে পড়লো অশোক। ডিরেক্টর খুব মনোযোগ দিয়ে একটা গবেষণাপত্র সম্পাদনা করছিলেন, অশোক কে এভাবে ঢুকতে দেখে তিনিও একটু অবাক হলেন, ‘কি ব্যাপার? হটাৎ?’
স্যার একটা বড় প্রবলেম।
বসুন আগে। এতো হাঁফাচ্ছেন কেন? কে আবার কি প্রবলেম করলো?
স্ক্যাম
হোয়াট!
সরকারী অনুদানে চলা এই ইতিহাস-গবেষণা কেন্দ্রটি সদ্য দশ বছরে পদার্পণ করেছে। আয়তন যদিও খুব বড়ো নয়, বাৎসরিক বাজেট পনের কোটি। ডিরেক্টর নিজে একজন ইতিহাসবিদ, সিনিয়র অধ্যাপক। গত দুবছর তিনি নির্দেশকের দায়িত্ব পেয়েছেন এবং বলা বাহুল্য অতীব দক্ষতার সাথে গবেষণা কেন্দ্রটির উৎকর্ষ ঘটিয়েছেন। পূর্ববর্তী নির্দেশকদের তুলনায় ওনার সাফল্যের খতিয়ান এতটাই বেশী যে অনেকেই মনে করেন ওনার মেয়াদ তিন বছর হলেও সেটা আরো দুবছর বাড়বে এবং উনি এখান থেকেই রিটায়ার করবেন। যদিও দৈনন্দিন অ্যাডমিনিস্ট্রেটিভ কাজকর্ম উনি বিশেষ দেখতে চান না, সেটা রেজিস্ট্রারের ওপর ছেড়ে দিয়েছেন। দুপুরে এইসময়টা, মধ্যাহ্নভোজের পরবর্তী দুঘন্টা, উনি নিজের গবেষণা নিয়েই থাকেন। স্টুডেন্ট ছাড়া কারো উপস্থিতি পছন্দ করেন না। স্টাফদের জন্য সময় বরাদ্দ সকালে দুঘন্টা বিকেলে দুঘন্টা। এসময় বাদে স্টাফরা বিশেষ দরকার না পড়লে ওনার ঘরে কেউ আসে না।
অশোক চিফ অ্যাকাউন্টস্ অফিসার, মধ্যপঞ্চাশের মিতভাষী ধীর স্থির মানুষটি খুবই লাজুক, ডিরেক্টর না ডাকলে কদাপি এমুখো হননা, বিশেষ প্রয়োজনে পি.এ র সাথে অ্যাপয়েনমেন্ট না করে আসেন না, তাকে এভাবে উদভ্রান্তের মতো ঢুকতে দেখে ডিরেক্টরও বিষ্মিত।
স্ক্যাম? বলেন কি? কতো টাকার?
হিসেবটা স্যার এখনো পুরো বুঝতে পারছিনা, এক্সপেক্টেড ষাট লাখ।
হাউ?
অশোক চেয়ারটা টেনে নিয়ে ধপাস করে বসে পড়ে।
ক্যান্টিনের টাকাতে গড়মিল হচ্ছে স্যার। আপনার মনে আছে, গত সপ্তাহে মিটিং-এ আমরা ঠিক করলাম ক্যান্টিন সাবসিডি তুলে দেব, আমি জাস্ট একটা হিসেব করছিলাম যে ইয়ার্লি তা থেকে আমরা কতটা সেভ করতে পারবো। গত মাসের বিলটা মেলাতে গিয়ে দেখি আমরা ক্যন্টিন কনট্রাক্টরকে পে করেছি দু লাখ। সে হিসেবে আমাদের রোজগার হওয়া উচিত একলাখ, কারন আমরা ফিফটি পার্সেন্ট সাবসিডি দিই। বাট উই হ্যাভ আরনড অনলি ফিফটিন থাউস্যান্ড। পেমেন্ট হওয়া উচিত ছিল থার্টি থাউস্যান্ড। দিয়েছি একলাখ সত্তর হাজার টাকা বেশী।
আপনি ক্যান্টিন ইনচার্জ-এর সাথে কথা বলেননি? কি যেন নাম ছেলেটির, তথাগত!
হ্যাঁ স্যার আমি কথা বলেছি। ও প্রথমে বললো, এটা হতেই পারে, কারন একজন একমাসে ম্যাক্সিমাম তিরিশটা কুপন কিনতে পারে, কিন্তু যেহেতু কুপনের কোনো ভ্যালিডিটি পিরিওড নেই, তাই কেউ সেটা বহুদিল পর্যন্ত ব্যবহার করত পারে। ফলে যত কুপন জমা পড়েছে, সবটাই যে এমাসে বিক্রি হয়েছে এমন নয়। দু-তিন মাস বা প্রয়োজনে ছমাসের একটা ট্রেন্ড দেখতে হবে।
কিন্তু নিয়মটাতো ঠিক না অশোক, এতো একটা মেজর পদ্ধতিগত ত্রুটি।
স্যার এভাবেই চলে আসছ প্রথম থেকে।
কিন্তু আপনি লাস্ট ছমাসের ট্রেন্ডটা দেখলেন?
সেম স্যার, ওয়ান পয়েন্ট ফাইভ অন অ্যান অ্যাভারেজ ওভারপেমেন্ট।
কি বলছেন অশোক?
আই হ্যাভ নো ক্লু স্যার, আর এটা যদি হয়, লাস্ট তিন বছর ওরা কন্ট্রাক্টর, ইয়ার্লি আঠেরো লাখ ইন্টু থ্রি, প্রায় চুয়ান্ন পঞ্চান্ন লাখ, ইফ নট মোর।
ডিরেক্টরের প্রায় চেয়ার ছেড়ে পড়ে যাবার উপক্রম, ‘ তিন বছর ধরে এটা চলছে অথচ অডিট ধরেনি! আপনাদের কোথাও গোলমাল হচ্ছে না তো?’
যেকোনো ভাবেই হোক ধরা পড়েনি স্যার, কিন্তু গড়মিলটা হয়েছে। আমি কনর্ফাম।
হুম্! আপনি আমি ছাড়া আর কে জানে?
আর কেউ জানে না স্যার।
আপাততঃ কাউকে বলবেন না। সন্ধ্যেবেলা আমি একটা মিটিং ডাকছি।
সেদিন অফিস ছুটির পর ডিরেক্টরের ঘরে কোর কমিটির গোপন বৈঠকে ডিনের নেতৃত্বে একটা এনকোয়্যারি কমিটি তৈরি হলো। কমিটি সিদ্ধান্ত নিল, প্রথমে সম্ভাব্য দোষীদের একটা তালিকা তৈরি হোক।
প্রথমেই তথাগত, ক্যান্টিন ইনচার্জ। ওর কাছেই সব কুপন থাকে, অফিসের স্টাফ এবং স্টুডেন্ট সেই কুপন দশ টাকা করে কেনে। সারা মাসের কুপন বিক্রির টাকা সে পরের মাসের এক তারিখ অ্যাকাউন্টসে পাঠিয়ে দেয়। সারা মাস ধরে লোক কুপন দিয়ে মিল খায়, যত কুপন জমা পরে, সেটা কুড়ি টাকা করে বিল করে আবার তথাগতর কাছে জমা দেয় ক্যান্টিন মালিক। সে কুপন গুনে দেখে সংখ্যাটা মিলছে কি না। এরপর সে বিল সার্টিফাই করে। কিন্তু সে তিনবছর ধরে কেন এটা দেখেনি, যত কুপন বিক্রি হচ্ছে তার থেকে বেশী জমা পরছে?
তথাগতর থেকে ফাইল যায় অ্যাডমিনিস্ট্রেটিভ অফিসার কমলেন্দুর কাছে। তিনি অ্যাপ্রুভালের প্রস্তাব দেন মাত্র, আপাতঅর্থে তার হিসেব মেলানোর কথা নয়। কিন্তু তথাগতর আগে একবছর সে সরাসরি এই দায়িত্ব সামলেছে। এই ঘাপলার শুরু তার সময় থেকে। সে হিসেবে সন্দেহের তালিকায় তার স্থান তথাগতর আগে। এছাড়া ব্যক্তিহিসেবেও অফিসে কমলেন্দুর রেপুটেশন খুব খারাপ, বাজারে তার প্রচুর ধার, এমনকি অফিসের বিভিন্ন ভেন্ডরদের কাছেও তার ধার আছে। কোনো এক অজ্ঞাত কারনে কমলেন্দুর প্রচুর টাকার প্রয়োজন। স্ত্রীর সাথে ডিভোর্স যদিও হয়নি কিন্তু স্ত্রী-পুত্র আলাদা থাকে। অফিসের লোক এটা বুঝে পায়না যে এত টাকা তার কেন লাগে!
এরপর ফাইল যায় রেজিস্ট্রারের কাছে। ওনার সরাসরি কিছু করার নেই ফাইলটা ডিরেক্টরকে পাঠানো ছাড়া, কিন্তু এই কুপন কেলেঙ্কারির একটা বড় কারন কুপন ব্যবহারের পদ্ধতিগত ত্রুটি, যার দায় কিন্তু রেজিস্ট্রারের। যেমাসে কুপন কেনা হবে, যদি সেই মাসের মধ্যে শেষ করার নিয়ম থাকতো তবে এই ঘটনা ঘটত না। আরো একটা গোপন খবর হলো, যদিও উনি ডেপুটেশনে এসেছেন, কিন্তু ওনার পেরেন্ট অফিসে একবার ওনার বিরুদ্ধে ভিজিলেন্স হয়েছিল ঘুষ নেবার জন্য।
ডিরেক্টর ফাইল অ্যাপ্রুভ করলে তা অশোকের কাছে আসে, তারপর পেমেন্ট হয়। অশোকও কমলেন্দুর মতো এই অফিসে প্রথম থেকে আছে। সে যথেষ্ট দায়িত্ববান হলেও তার একটা নেশা আছে শেয়ার মার্কেটে টাকা খাটানোর এবং ইদানিং সে বেশ লস্ করেছে। এছাড়া একটা বড় প্রশ্ন অশোকের বিপক্ষে যায়, যে বিগত তিনবছর ধরে কেন সে একবারও রিকনসিলিয়েশন করেনি? বছরে তিনবার বিভিন্ন অডিট হয়, তবু তিনবছর কিভাবে এই ফাইলটা সবকটা অডিটের চোখ এড়িয়ে গেল?
সন্দেহের তালিকায় কাউকেই বাদ দেওয়া যায়না কারন এই যে রিকনসিলিয়েশন হয়না, সেটা ক্যান্টিন মালিক জানলো কি করে যদি না ভেতরের কেউ বলে থাকে? যদি সে আগেই না জানতো তবে দায়িত্ব নেবার প্রথম মাস থেকে সে এই দূর্নীতি করার সাহস পায় কি করে? নিশ্চই ভেতরের কেউ এক বা একাধিক জন যুক্ত আছে যে ওকে চুরির পথ দেখিয়েছে। কে সেই ব্যক্তি?
ব্যক্তিগতভাবে তথাগত খুব ভদ্র বিনয়ী যুক্তিবাদী। বাবা মা স্ত্রী এবং দেড় বছরের এক পুত্র নিয়ে সংসার। মাত্র দুবছর এই চাকরিতে সে যোগ দিয়েছে। সে রেগুলার এমপ্লয়ি নয়, কন্ট্রাকচুয়াল। তার আগে এই পোস্টে ছিল পলাশ, সে লিয়েন নিয়ে অন্যত্র জয়েন করেছে। যদিও কদিন আগে পলাশ পাকাপাকি ভাবে রেজিগনেশান দিয়েছে, তথাপি তথাগতর সরাসরি কনফার্মেশান হবে না। পোস্ট অ্যাডভার্টাইস হবে, ফ্রেশ সিলেকশান হবে। তবু তার দিকেই পাল্লা ভারী ছিল যেহেতু সে ভালোভাবে দায়িত্বের সাথে কাজ করছিলো, কিন্তু এর মধ্যে এই বিপত্তি।
গভীর রাতে আজকাল হটাৎ হটাৎ ঘুম ভেঙে যায় তৃষার। আসলে ছোট্ট পিটিস ঘুমের মধ্য হাত-পা ছোড়ে। আগে পিটিস তৃষা আর তথাগতর মধ্যে শুতো, কিন্তু একবার ঘুম ভেঙে গেলে তথাগতর আর ঘুম আসতে চায়না, তার ওপর তথাগতর ব্লাডপ্রেশার বেশি, তাই আজকাল তৃষা মধ্যে শোয়। হটাৎ ঘুম ভেঙে পাশ ফিরে খেয়াল হলো তথাগত নেই। তাড়াতাড়ি বেডসাইড ল্যাম্প জ্বেলে উঠে এসে দেখে, খুব আনইউস্যুয়াল, ব্যালকনিতে দাঁড়িয়ে সিগারেট খাচ্ছে।
তুমি জেগে? এখানে কি করছো?
ঘুম আসছেনা তৃষা।
কেন কি হয়েছে?
একটা বিপদের মধ্যে রয়েছি।
এবার তৃষাও আতঙ্কিত হয়, ‘কি হয়ছে?’
অফিসে একটা স্ক্যাম হয়েছে, অনেক টাকা, প্রায় পঞ্চাশ পঞ্চান্ন লাখ, আর আমি অদ্ভুতভাবে জড়িয়ে গেছি।
সেকি! কিভাবে?
গোটা ঘটনাটা ঘটেছে আমার হাত দিয়ে, অথচ এতো নিখুতভাবে হয়েছে যে বিন্দুবিসর্গ বুঝতে পারিনি কোনোদিন। এরপর ভিজিলেন্স, থানা, পুলিশ। জানিন চাকরিটা থাকবে কিনা!
কি বলছ তুমি?
চাকরি গেলে হয়ত একটা খুঁজে নেবো, যদিও এই বয়সে চাকরি পাওয়া বেশ চাপ, কিন্তু পাড়ার মধ্যে দিয়ে যদি পুলিশ কোমড়ে দড়ি বেঁধে নিয়ে যায়, চোর প্রতিপন্ন করে, বাবা-মা আত্মীয় স্বজন, ভাবো একবার –
তৃষা তথাগতর হাত নিজের মুঠোর মধ্যে শক্ত করে চেপে ধরে, তার বাঁ বাহুতে নিজের গাল ঘষতে থাকে, ‘ কিচ্ছু হবে না, তুমি দুশ্চিন্তা কোরো না, ভগবান আছেন, সব ঠিক হয়ে যাবে।’
তথাগত বুঝে পায়না কিভাবে সব ঠিক হবে! তদন্ত কমিটির কাছে সে নিজেকে নির্দোষ প্রমান করার চেষ্টা করে, –
এক, সে চাকরিতে যোগ দিয়েছে ২০০৭ সালের অগাস্ট মাসে, কিন্তু এই গড়মিল সেবছর জানুয়ারী মাস থেকে। অগাস্ট থেকে ডিসেম্বর এই চারমাস সে দায়িত্বে ছিলনা। সে দায়িত্ব পেয়েছে ২০০৮ এর জানুয়ারী ধেকে। দায়িত্ব পাওয়ার পর আগে থেকে চলে আসা নিয়ম মেনে সে কুপন বিক্রি করেছে এবং বিল চেক করেছে। তাই চুরির সাথে সে কখনোই যুক্ত নয়। দুর্ভাগ্যবশতঃ এবং অজ্ঞানতাবশতঃ একটা চলতে থাকা চুরির অংশ হয়ে গেছে সে।
দুই, রিকনসিলিয়েশন তার করার কথা নয়, সেটা অ্যাকাউন্টসের কাজ।
তিন, কুপন ব্যবহারের পদ্ধতিগত ত্রুটির কথা সে আগেও বলেছে।
বলা বাহুল্য, এই পদ্ধতিগত ত্রুটিকে ঢাল হিসেবে ব্যবহার করেছে কমলেন্দুও। যদিও তদন্ত কমিটির একটা প্রশ্নে দুজনেই বেশ বিপাকে, এত অতিরিক্ত কুপন প্রতিমাসে ক্যান্টিন মালিক পাচ্ছে কোথা থেকে?
কুপনগুলো প্রতিমাসে তথাগত কিন্তু নিজের হাতে গোনে নি, সেগুলো গুনেছে রাকেশ। রাকেশ এখানে বহুদিন ধরে চাকরি করছে, অত্যন্ত বিশ্বস্থ, যদিও কন্ট্রাক্টরের স্টাফ কিন্তু অসম্ভব কাজের ছেলে। প্রতিমাসে কুপন গুনে সে সযত্নে প্যাক করে আলমারীতে রাখে। তবে কি রাকেশ তাকে মিথ্যে বলেছে এতদিন? প্যাকেটে সত্যি অত কুপন নেই, সে ভুয়ো বিলে সই করেছে। তাহলে সমস্ত দোষ তার এবং সব টাকা তার ধেকে রিকভারি হবে। অফিসে এসে সে রাকেশকে ডেকে আলমারী থেকে প্যাকেট নামায়। দুমাস আগের একটা প্যাকেট সিল খুলে আবার গুনতে বলে তার সামনে। সারা দিন ধরে চলে গোনাপর্ব, এবং অদ্ভুতভাবে সব ঠিকঠাক। তাহলে? তবে কি পুরোনো কুপন আবার চলে যাচ্ছে ওদের কাছে? রাকেশই ওগুলোর দায়িত্বে, স্ট্রংরুমের চাবি ওর কাছে। চব্বিশ ঘন্টা এখানে থাকে রাকেশ, গেস্টহাউসের ক্লিনিং দেখভাল করে, সপ্তাহে একদিন বাড়ি যায় সিকিওরিটির কাছে চাবি রেখে। রাকেশকে নিয়ে স্ট্রংরুমে যায় তথাগত। নাহ্, সমস্ত প্যাক থরে থরে সাজানো, মাস ধরে, বছর ধরে। তাহলে?
স্যার একটা কথা বলবো! কুপন ওরা ছাপাচ্ছে নাতো? অবিকল একরকম কুপন ছাপানো আর কি এমন ব্যাপার?
মুহুর্তে বিদ্যুৎ খেলে যায় তথাগতর দেহে। সত্যি। সম্ভব।
কিন্তু কিভাবে সেটা প্রমান করবো রাকেশ! সেটা প্রমান করতে গেলে তো আমাকে একই নম্বরের দুটো কুপন খুঁজে বার করতে হবে। এই হাজার হাজার কুপন ঘেঁটে একই নম্বরের দুটো কুপন বার করা তো খরের গাদায় সূঁচ খোজার মতো! কিকরে সম্ভব?
আমার মনে হলো, তাই বললাম স্যার। বাঁচতে গেলে হয়তো তাই করতে হবে।
আরো এক বিনিদ্র রজনী তৃষা তথাগত পাশাপাশি ব্যালকনিতে দাঁড়িয়ে থাকে।
আচ্ছা, পলাশ লোকটা কেমন?
যেটুকু শুনেছি, খুব ধুরন্ধর। আমার সাথে কখনো আলাপ হয়নি। ও চলে যাবার সাতমাস বাদে আমি জয়েন করেছি।
লোকটা প্রথম থেকেই ক্যান্টিনের চার্জে ছিলো। যতদিন ছিলো, কোনো গোলমাল নেই। যেমাসে চলে গেলো, সেমাস থেকে শুরু। যদি রাকেশের কথা ঠিক হয়, কন্ট্রাকটর কুপন ছাপিয়ে মেশাচ্ছে, তাহলেও সে প্রথম মাস থেকে এত সাহস কিকরে পায়! আসার আগেই তাহলে সে কুপন ছাপিয়েছিলো। সে জানতো বিল চেকিং-এর এই গ্যাপটা, বা তাকে জানানো হয়েছিলো। এটা কিন্তু তাহলে অনেক প্ল্যান কষেই বানানো। সেভাবেই টেন্ডার করে কন্ট্রাক্টরকে ধরে আনা।
ঠিক বলেছ তৃষা, এর মূল অনেক গভীরে। কিন্তু পলাশকে আর ধরার উপায় নেই। কিছুদিন আগে পর্যন্ত ওর লিয়েন ছিলো, কিন্তু এখন ও চাকরী ছেড়ে দিয়েছে আর ওর সব সেটেলমেন্টও হয়ে গেছে।
সেটা বড় কথা নয়, প্রমান করতে হবে যে পলাশ অপরাধী। হয় পলাশ, নয় কমলেন্দু। অথবা দুজনেই।
কমলেন্দু ফেঁসে আছে, কিন্তু পলাশকে ধরা কঠিন যদিনা ক্যান্টিন মালিক নিজে স্বীকার করে।
আমার মনে হয়, আর একজন অনেক কিছু জানে রাকেশ। ও প্রথম থেকে আছে, ও এখনো চব্বিশ ঘন্টা থাকে, তখনো থাকতো। ও তোমার যেমন চ্যালা, পলাশ বা কমলেন্দুরও চ্যালা ছিলো। ও সব জানে। ও কিন্তু নিজের বুদ্ধি ধেকে বলেনি কুপন ছাপানোর কথা, ও জানতো। ও কিন্তু এখন তোমায় হেল্প করতে চাইবে, কারন ও জানে, তুমি ফাঁসলে ওর টান পরবে। তুমি বাঁচলে ও বেঁচে যাবে। ও খুব নীডি, চাকরী ওকে বাঁচাতেই হবে। তুমি যেভাবেই হোক রাকেশকে চেপে ধরো।
ঠিক বলেছো তৃষা, যদিও কালকেই সেটা করা যাবে না। আগে ওর সাথে বসে জাল কুপন খোঁজার সেই দুসাধ্য কাজটা শুরু করি। বাকিটা আমি সাজিয়ে নিচ্ছি।
পরদিন অফিসে গিয়ে তথাগত তিনদিনের জন্য গেস্টহাউসে একটা ঘর বুক করলো। রাকেশকে দিয়ে সব কুপন সেখানে নিয়ে গেলো। তারপর হাজার হাজার কুপন মেঝেতে ফেলে রাকেশকে নিয়ে শুরু করলো মেলানোর কাজ। যদিও সে জানে এ এক অসম্ভব পন্ডশ্রম। যথারীতি তিনদিনে কিছুই মেলানো গেল না। তৃতীয়দিন সন্ধ্যা আটটা নাগাদ হটাৎ অসুস্থ হয়ে পড়লো তথাগত। ফোন পেয়ে ঘন্টাখানেকের মধ্যে ট্যাক্সি নিয়ে হাজির হলো তৃষা। তথাগতকে ট্যাক্সিতে বসিয়ে গেস্টহাউসের ঘর থেকে তার জিনিসপত্র আনতে গিয়ে তৃষা দেখে রাকেশ তখনো কুপনগুলো গুছিয়ে প্যাক করছে। এ এক মোক্ষম সুযোগ, হটাৎ রাকেশের পা জড়িয়ে ধরলো সে।
রাকেশ অপ্রস্তুত হয়ে ছিটকে আসে, ‘ এ কি করছেন ম্যাডাম? ‘
তুমি ওকে বাঁচাও রাকেশ। এভাবে চললে ও মরে যাবে।
আপনি আমার পা ছাড়ুন ম্যাডাম, কেউ দেখলে আমার চাকরি চলে যাবে।
কিচ্ছু যাবে না, আমি আছি। ডুপ্লিকেট কুপন যদি বার করা যায়, আমি জানি, তুমিই পারবে। এভাবে হবে না।
আচ্ছা আপনি উঠুন, আমি দেখছি। আপনি স্যারকে নিয়ে চলে যান, আমি খুঁজছি। নিশ্চই পাওয়া যাবে একটা না একটা।
তৃষা উঠে দাঁড়ায়, মনে মনে বোঝ, তার কাজ হয়ে গেছে। রাকেশ ঠিক বার করে দেবে নকল কুপন।
বাস্তবে তাই ঘটে। পরেরদিন তথাগত ভেবেছিল অসুস্থতার ছুটি নেবে, কিন্তু সকালেই ফোন এলো রাকেশের। অফিসে গিয়ে দেখলো রাকেশ অনেকগুলো নকল কুপন বার করে ফেলেছ এবং বেশ বুদ্ধিমত্তার সাথে। ও এমনকিছু কুপন খুঁজে রেখেছে যে নম্বরগুলো, রেজিস্টারের হিসেবে, এখনো ইস্যুই হয়নি।
তদন্তকমিটির সামনে এই কুপনগুলো মেলে ধরলো তথাগত। এতে তদন্তর কাজ অনেক সহজ হলো। কমিটি রিপোর্টে ক্যান্টিন মালিককে দোষী সাব্যস্ত করে থানায় এফ.আই.আর করার প্রস্তাব দিলো, এবং কর্মচারী কাউকেই সরাসরি দোষী না করে, কাজে গাফিলতি, সেজন্য কারন দর্শানোর নোটিশ দিতে বললো। শুভানুধ্যায়ী কিছু সহকর্মী তথাগতকে উপদেশ দিলো, তাড়াহুড়ো না করে সে যেন একজন আইনজীবির পরামর্শ নিয়ে শো-কস-এর উত্তর দেয়।
রাত্রিবেলা ব্যালকনিতে দাঁড়িয়ে তৃষা তথাগতকে আরো কতগুলো চাঞ্চল্যকর তথ্য দিলো। পলাশ লোকটা না কেবল ধুরন্ধর, একজন পাক্কা ওমেনাইসার, টাকা মদ মেয়ে সব দোষে দুষ্ট। নিজের বউ মেয়ে দেশের বাড়িতে থাকে, এখানে একটা এক্সট্রাম্যারিটাল আছে। সেই ভদ্রমহিলা আর কেউ নন, কমলেন্দুর স্ত্রী। তথাগতর অফিসের সমস্ত খবর পলাশের কাছে থাকে। সিকিওরিটি, ক্লিনার, ভেন্ডর থেকে শুরু করে টপ-বস পর্যন্ত সবার সাথে যোগাযোগ রাখে পলাশ।
তৃষার দেওয়া খবরে তথাগত অবাক হয়ে যায়। আরো বিস্মিত হয় যখন তৃষা কিছুতেই বলে না এত খবর সে জানলো কি করে?
কয়েকদিনের মধ্যেই ক্যান্টিন মালিককে গ্রেফতার করলো পুলিশ। সেদিন হটাৎ কয়েক ঘন্টার ছুটি নিয়ে রাকেশ বিকেলে বাড়ি গেল। ফিরলো না। পরদিন ইছাপুরে রেললাইনের ধারে তার মৃতদেহ পাওয়া গেল। যদিও খবরের কাগজ সেটা নিছক দূর্ঘটনা বলে ছাপলো, তথাপি ডিরেক্টর অফিসে মিটিং ডাকলেন এবং গম্ভীরমুখে বললেন, কেসটা আর সহজ রইলো না। খবরের কাগজের সাথে কাউকে কোনোরকম কথা বলতে তিনি বারন করে দিলেন। এই কেসের সাথে যুক্ত সকলকেই বিশেষকরে তথাগতকে খুব সাবধান থাকতে বললেন যেহেতু কাউকেই ব্যক্তিগত নিরাপত্তা দেওয়া সম্ভব নয়। তদন্ত কমিটির রিপোর্টে ছাড় পাওয়ার পর মাঝে কয়েকদিন ঘুমিয়েছিলো তথাগত, এবার নতুন মৃত্যুভয় আবার তার ঘুম কেড়ে নিলো। শুধু হটাৎ মাঝরাতে তৃষার ঘুম ভেঙে গেলে তথাগতর কাছে এসে হাতের মুঠো শক্ত করে চেপে ধরে অভয় দেয়, সব ঠিক হয়ে যাবে।
যদিও কিছুই ঠিকমতো ঘটেনা। কদিন বাদেই ক্যান্টিন মালিক জামিনে ছাড়া পেয়ে যায়। ওদিকে ডিরেক্টর তদন্ত রিপোর্ট নিয়ে দিল্লী যান, কিন্তু জয়েন্ট সেক্রেটারী ইন্টারনাল কমিটির রিপোর্ট না মেনে পরামর্শ দেন ভিজিলেন্স-এর। কেসটা রিওপেন হয়। এরা প্রধম থেকেই তথাগতকে বেশী জেরা করতে থাকে। কিছুতেই বুঝতে চায়না কুপন বিক্রি এবং ফেরত আসার মধ্যে যে ত্রুটিগুলো ছিলো সেসব কথা। আরো মুশ্কিল হলো রাকেশ মরে যাওয়ায় অনেক তথ্য আর ঠিকমতো বলতে পারেনা তথাগত। যেমন জাল কুপনগুলো ঠিক কোন মাসের প্যাক-এ পাওয়া গেছিলো সে জানে না। সে নিজেই যে জাল কুপন ছাপিয়ে কেসটা ঘুরিয়ে দিতে চায়নি, তার প্রমান তথাগত দিতে পারে না।
একদিন অফিসের পর কমলেন্দু আর তথাগত রাকেশের বাড়ি যায়। ইছাপুর স্টেশনের কাছেই একটা ছোট্ট টালির বাড়ি। বিধবা মা, এক বোন। রাকেশের কিছু জিনিসপত্র, প্রাপ্য টাকা, মার হাতে তুলে দেয় কমলেন্দু। ওরা যতক্ষণ থাকে, শোকাতুর মা সারাক্ষণ কেঁদে চলেন। রাকেশের বোন দুকাপ চা নিয়ে আসে, প্রায় চিনি ছাড়া, কষ্টা। গলা দিয়ে নামতে চায়না। দুচুমুক খেয়ে সরিয়ে রাখে তারা। তারপর কিছু নিয়মমাফিক সান্তনা দিয়ে বেড়িয়ে আসে। পেছন পেছন রাকেশের বোন। হটাৎ কমলেন্দু রাকেশের বোনের হাতে একটা বন্ধ কাগজ দিয়ে বলে, ওনার নাম ঠিকানা লেখা আছে, ওনার সাথে দেখা কোরো, কাজ হয়ে যাবে। আমি বলে রেখেছি, তবে যাবার আগে একবার ফোন করে নিও।
রাকেশের বোন কাগজটা রেখে দেয়।
‘কার কাছে পাঠালেন? পলাশবাবু?’ কথাটা আনেক্ষণ ধরেই মাথার মধ্যে ঘুরছিলো, রাতের ডাউন ট্রেন, বেশ ফাঁকা, জানলার ধারে মুখোমুখি বসে কমলেন্দুকে প্রশ্নটা সে করেই ফেললো তথাগত।
হ্যাঁ ওই আর কি! নয়তো ওদের খাওয়া জুটবে না। আমাদের অফিস তো আর চাকরি দেবে না। পলাশের অনেক ক্ষমতা, ও ঠিক ব্যবস্থা করে দেবে কিছু একটা।
পলাশ লোকটা কেমন? আপনি তো অনেকদিন ওর সাথে কাজ করেছেন –
আমার তো কখনো খারাপ মনে হয়নি। যথেষ্ট কোঅপরেটিভ, প্রচুর ওয়ার্কলোড নিতো, ভীষণ ডায়ানামিক।
আমার কাছে খবর আছে লোকটার চরিত্র কিন্তু ভালো নয়। এই যে মেয়েটাকে পাঠালেন, ওকে তো ব্যবহার করবে।
সেটা মেয়েটা ভাববে সে বসকে কিভাবে হ্যান্ডেল করবে। আমি একটা কন্ট্যাক্ট দিয়েছি মাত্র, শুয়ে পরতে বলিনি। চরিত্র কার ভালো তথাগত? আমরা সবাই পলিগ্যামিক। কেউ পারে, কেউ পারেনা। সাহস নেই তাই মধ্যবিত্ত মানসিকতা দিয়ে রিপুদমন করি।
আমার কিন্তু মনে হয় এই কুপন কেলেঙ্কারীর উনিই মাস্টারমাইন্ড। আজ সাবসিডি উঠে না গেলে এই জিনিসটা ধরাই পরতো না। ক্যান্টিন মালিক যদি পঞ্চাশ লাখ কামায়, অন্তত ফিফটি পার্সেন্ট পলাশ পেয়েছে।
কি জানি? হতে পারে।
আপনার সাথে তে রেগুলার যোগাযোগ আছে, আপনি কখনো জিগেস করেন নি?
এই নিয়ে আমাদের কথা হয়না। আর বললেই কি ও স্বীকার করবে? কোনো প্রমান নেই, কোথাও ওর কোনো সই নেই। সব ধরাছোঁয়ার বাইরে।
এই কেসটায় কিন্তু সবথেকে ভিক্টিমাইজড আমি আর আপনি। কখনো এই কেসটা নিয়ে ওনার সাথে কথা বলেন নি? আপনি কিন্তু মিথ্যে কথা বলছেন।
আপনি কি আমায় জেরা করছেন।
জেরা নয়। কিন্তু এটা তো ঠিক আপনার সাথে পলাশের প্রতিদিন যোগাযোগ আছে।
‘হ্যাঁ আছে।’ কমলেন্দু এবার উত্তেজিত হয়ে পড়ে, ‘কারন ওর থেকে আমায় নিয়মিত টাকা ধার নিতে হয়। লোকটা চরিত্রহীন হোক, জালি হোক, কিন্তু আমায় বাঁচিয়ে রেখেছে। অফিসের তথাকথিত কোন ভদ্র বাঞ্চোৎ আমায় টাকা ধার দেয়না। মাসের মাইনে ব্যাঙ্কে ঢুকলে পুরো টাকাটা ধার শোধ আর ইন্টারেস্ট দিতে চলে যায়। আপনি জানেন আমি কিভাবে বেঁচে আছি?’
আপনার এতো ক্রাইসিস কিসের?
আমার বাজারে প্রচুর ধার তথাগত। সেগুলো শোধ করতে আমার অনেক টাকার দরকার। পলাশ আমায় বাঁচায়।
‘আপনি জানেন তার বদলে আপনার স্ত্রীকে ও ভোগ করে?’ হটাৎ মুখ ফস্কে কথাটা বলে ফেলে তথাগত। বলেই খেয়াল হয় যে এটা বলা উচিত হয়নি। কমলেন্দু আসম্ভব উত্তেজিত হয়ে উঠে দাঁড়ায়।
আমি জানি। কিন্তু আপনি জানেন যে আপনার স্ত্রী পলাশের কলেজ জীবনের প্রেমিকা? পলাশ কিন্তু শুধু আজ চরিত্রহীন না, চিরদিনই বান্ধবী মানে শরীর বোঝে।
পায়ের তলার জমি যেন কেঁপে ওঠে তথাগতর, ‘কি বলছেন আপনি?’
আপনি জানেন না। আপনি অনেক কিছুই জানেন না যা আমি জানি। জানেন আপনি এখানে চাকরি পেয়েছেন পলাশের জন্য। আপনি জানেন না। শুনে রাখুন। এই কেসটার ভবিষ্যত কি হবে আপনি জানেন না, আমি জানি। শুনে রাখুন। অটোনোমাস ইনস্টিটিউটে এরকম স্ক্যাম আকছার হয়। তদন্ত এখন অনকদিন চলবে। তার মধ্যে ডিরেক্টর অন্য ইনস্টিটিউটের ডিরেক্টর হয়ে চলে যাবেন। রেজিস্ট্রার ডেপুটেশন শেষ করে পেরেন্ট অফিসে ফিরে যাবে। আমার আর অশোকের পার্সোনাল ফাইলে শো-কস নোটিশ আর তার উত্তর রাখা থাকবে, কিন্তু কোনো অ্যাকশন হবে না। শুধু বাকি থাকবেন আপনি। আপনার কন্ট্রাকচ্যুয়াল চাকরি, রিনিউ হবে না। ছোটো ছোটো এক্সটেনসন দিয়ে রাখা হবে যতদিন না কেসটা ফয়সালা হয়। ততদিন আপনার মাইনে বাড়বে না। ওদিকে আপনার রেজিগনেশানও অ্যাক্সেপ্ট করবো না বা ক্লিয়ারেন্স ও দেবো না যাতে আপনি এই চাকরি ছেড়ে পালাতে না পারেন। আর যদি একবার ক্যান্টিন মালিককে দিয়ে বলানো যায় যে আপনিও টাকা নিয়েছেন, প্রমান পরে হবে, তার আগে কদিনের জন্য লকাপেও ঘুরে আসতে পারেন। বুঝেছেন! নিজেকে বাঁচান, নিজের ঘর সামলান, তারপর অন্যের ঘরে উঁকি দেবেন।
তথাগতর সারা শরীর জুড়ে যেন হাজার হাজার রিখটার স্কেলে কম্পন ঘটে যায়। এ রহস্যের কোনো তল খুঁজে পায়না সে। কারা কারা এর সাথে যুক্ত? গোটাটাই যেন একটা সাজানো ফাঁদ, তাকে মধ্যে রেখে জাল বোনা হয়েছে বহুদিন আগেই।
ট্রেন থেকে নেমে বাড়ি অব্দি টাল খেতে খেতে কোনক্রমে এসে পৌঁছায় সে। রাতে খাবার টেবিলে মা হটাৎ ধরে ফেলে, ‘তোর কি শরীর খারাপ? কদিন কেমন চুপচাপ! কেমন শুকনো দেখাচ্ছে! মুখটায় কেমন একটা কালির ছাপ পড়েছে! একটা ডাক্তার দেখা।’
গভীর রাতে আজকাল প্রতিদিন ঘুম ভেঙে যায় তৃষার। পাশে হাতরে দেখে যথারীতি তথাগত নেই। আরো অবাক হয় যখন দেখে ব্যালকনিতেও তথাগত নেই। বদলে সে বেডসাইড টেবিলে একটা চিরকুট পায়। তাতে লেখা, ‘আমার মৃত্যুর জন্য কেউ দায়ী নয়।’
২০১০ (সহনাগরিক)
